অর্থনীতি ডেস্ক: ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের পরিবারগুলোর মাসিক আয়ের ভিত্তিতে একটি নতুন শ্রেণিবিন্যাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এটি কোনো সরকারি তালিকা নয়, তবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনমান বিশ্লেষণে এই পরিসংখ্যানটি একটি বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছে।
সাম্প্রতিক এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে মাসিক আয় অন্তত ১৫ হাজার টাকার উপরে হওয়া প্রয়োজন।
আয়ের ভিত্তিতে ৮টি স্তরের শ্রেণিবিন্যাস:
১. চরম দরিদ্র: যাদের মাসিক পারিবারিক আয় ১৫,০০০ টাকার নিচে।
২. নিম্নবিত্ত: যাদের আয় ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকার মধ্যে।
৩. নিম্ন-মধ্যবিত্ত: মাসিক আয় ৩০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে।
৪. মধ্যবিত্ত: ৬০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় হলে তাদের মধ্যবিত্ত ধরা হচ্ছে।
৫. উচ্চ-মধ্যবিত্ত: ১,২০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ টাকা মাসিক আয়।
৬. উচ্চবিত্ত: মাসিক ৩,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ টাকা।
৭. ধনী/সম্পদশালী: মাসিক ১০,০০,০০০ টাকার বেশি আয়।
৮. অতি ধনী/এলিট শ্রেণি: যাদের মাসিক পারিবারিক আয় ৫০,০০,০০০ টাকার উপরে।
কেন এই পরিবর্তন?
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং বাসা ভাড়া যে হারে বেড়েছে, তাতে আগের আয়ের হিসাব দিয়ে বর্তমান জীবনযাত্রার মান পরিমাপ করা কঠিন। বিশেষ করে শহর অঞ্চলে একটি মাঝারি আকারের পরিবারের জন্য ৬০ হাজার টাকার নিচে আয় হলে সম্মানজনক জীবনযাপন চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
এই তালিকাটি মূলত গড় জীবনযাত্রার খরচ ও মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় তৈরি করা হয়েছে। জনসাধারণের জন্য এটি নিজেদের আর্থিক অবস্থান বুঝতে এবং ভবিষ্যতের বাজেট পরিকল্পনা করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন