নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই, অথচ বিশ্বের অন্যতম দুই বড় বাজার ভারত ও চীনে এখনো সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির ঘোষণা আসেনি। ফিফার তথ্যমতে, গত বিশ্বকাপে বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দর্শকদের অর্ধেকই ছিল চীনের, তবুও এবারের আসর নিয়ে দেশ দুটির সম্প্রচারকদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ফিফা ভারতের বাজারের জন্য শুরুতে ১০ কোটি ডলার দাবি করলেও বর্তমানে সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। তবে ভারতের বৃহত্তম মিডিয়া গোষ্ঠী রিলায়েন্স-ডিজনি মাত্র ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে রিলায়েন্স প্রায় ৬ কোটি ডলারে স্বত্ব কিনলেও এবার তারা অর্থ খরচে সাবধানী। সনিও এই বিনিয়োগকে ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক মনে না করায় প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
ভারত ও চীনের সম্প্রচারকদের এই অনাগ্রহের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উঠে এসেছে:
সময়ের পার্থক্য: এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। অধিকাংশ ম্যাচই ভারত ও চীনে মাঝরাতের পর অনুষ্ঠিত হবে, যা দর্শকসংখ্যা ও বিজ্ঞাপনের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজ্ঞাপন বাজারের মন্দা: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞাপনের বাজারে যে মন্দা দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও।
জাতীয় দলের পারফরম্যান্স: চীনে প্রায় ২০ কোটি ফুটবল ভক্ত থাকলেও তাদের জাতীয় দল বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। ফলে সাধারণ দর্শকদের মাঝে আগের মতো উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৭৫টির বেশি অঞ্চলে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। ভারত ও চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে গোপনীয়তার স্বার্থে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সিসিটিভি বা রিলায়েন্স-ডিজনির পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘ডেন্টসু ইন্ডিয়া’র মতে, পরিস্থিতি এখন অনেকটা দাবার লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তের মতো। সময় কম থাকলেও একে একেবারে 'অচল অবস্থা' বলা যাবে না। ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা, শেষ মুহূর্তে হলেও একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে পক্ষগুলো, যাতে কোটি কোটি দর্শক বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ থেকে বঞ্চিত না হয়।
মন্তব্য করুন